৯২ বছরে প্রথম নকআউটে মিশর, অপেক্ষায় ইরান

স্টার নিউজ ডেস্ক:
ফুটবল বিশ্বকাপে গ্রুপ ‘জি’ থেকে নক আউট পর্ব নিশ্চিত করেছে মিশর। গ্রুপ পর্বে নিজেদের তৃতীয় ও শেষ ম্যাচে আজ ইরানের সাথে ১-১ গোলে ড্র করে রানার্সআপ হিসেবে নকআউট পর্বে উঠেছে মিশর। ১৯৩৪ সালে অভিষেকের পর এই প্রথম নকআউট পর্বে খেলার যোগ্যতা অর্জন করল মিশর।
ইনজুরি সময়ে ভিডিও সহকারী রেফারির (ভিএআর) মাধ্যমে অফসাইডের কারনে গোল বাতিল হওয়ায় ড্র নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয় ইরানকে। ৩ ম্যাচে ৩ ড্র’তে ৩ পয়েন্ট নিয়ে এই গ্রুপ থেকে তৃতীয় দল হিসেবে নকআউটে ওঠার আশা বাঁচিয়ে রেখেছে ইরান। শেষ ৩২-এ জায়গা নিশ্চিত কিনা সেটির জন্য রোববার পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে ইরানকে। বর্তমানে তৃতীয় দলের তালিকায় ৬ নম্বরে অবস্থান করছে তারা।
গ্রুপ আই, জে ও কে-এর দিকে তাকিয়ে থাকতে হবে ইরানকে। এই তিন গ্রুপ থেকে তিন নম্বরে থাকা দু’টি দল নক আউটে খেলার সুযোগ পেলে, পরের রাউন্ডের টিকিট পাবে ইরান। তবে তিন গ্রুপ থেকে তিন দলই যদি নক আউট পর্বের টিকিট পায়, তাহলে গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায় নিতে হবে ইরানকে।
৩ ম্যাচে ১ জয় ও ২ ড্রতে ৫ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপ রানার্স-আপ হয়ে নক আউটে উঠল মিশর। এই গ্রুপ থেকে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে বেলজিয়াম। ৩ ম্যাচে ৫ পয়েন্ট নিয়ে গোলগড়ে এগিয়ে থাকায় টেবিলের শীর্ষে থেকে সেরা ৩২’এ খেলবে বেলজিয়াম।
যুক্তরাষ্ট্রের সিয়াটলে অনুষ্ঠিত ম্যাচের শুরুতে এগিয়ে যায় মিশর। পঞ্চম মিনিটে মোহাম্মদ সালাহর শট ইরানের গোলরক্ষক আলিরেজা বেইরানভান্দ ঠিকঠাকভাবে সামাল দিতে পারেননি। ফিরতি বলে বুদ্ধিমত্তার সাথে বল জালে পাঠান মাহমুদ সাবের। ফলে ১-০ গোলে এগিয়ে যায় মিশর। বিশ্বকাপের ইতিহাসে এটি মিশরের দ্রুততম গোল।
নবম মিনিটে ম্যাচে সমতা ফেরানোর সুযোগ পায় ইরান। মেহদি তারেমিকে বক্সের মধ্যে ফাউল করেন মিশরের ডিফেন্ডার আবদেলমোনহেম। সাথে-সাথে পেনাল্টির বাঁশি বাজান রেফারি। কিন্তু স্পট কিক থেকে গোল করতে পারেননি তারেমি। তারেমির শট বাঁ-দিকে ঝাঁপিয়ে দারুণ দক্ষতায় রুখে দেন মিশরের গোলরক্ষক শোবেইর।
তবে বেশিক্ষণ পিছিয়ে থাকতে হয়নি ইরানকে। ১৪ মিনিটে ম্যাচে ১-১ সমতা ফেরায় তারা। মোহাম্মাদির শট শোবেইর ফিরিয়ে দিলে ফিরতি বলে গোল করেন রামিন রেজাইয়ান। এই সমতা নিয়ে ম্যাচের প্রথমার্ধ শেষ করে মিশর ও ইরান।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরু থেকে পাল্টাপাল্টি আক্রমণ করে দুই দল। ৪৭ মিনিটে ইরানের এজাতোলাহির দূরপাল্লাার শট মিশরের পোস্টের উপর দিয়ে চলে যায়।
৪৯ মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুন করার সুযোগ পেয়েছিল মিশর। সালাহর পাস থেকে ট্রেজেগুয়েতের শট রুখে দেন ইরানের গোলরক্ষক বেইরানভান্দ। এরপর ৮৯ মিনিটে কর্নার থেকে উড়ে আসা বলে তারেমির হেড পোস্টে লেগে ফিরে আসে।
নির্ধারিত ৯০ মিনিট শেষে ম্যাচের ইনজুরি সময়ে নাটকের জন্ম হয়। ৯৩ মিনিটে মিশরের বিপদ সীমানায় বল পেয়ে গোল করেন খালিজাদেহ। ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে যাওয়ায় আনন্দ উল্লাসে মেতে উঠে ইরানি খেলোয়াড় ও সমর্থকরা। কিন্তু ভিএআর পর্যালোচনায় অফসাইডের কারণে গোলটি বাতিল করা হয়। শেষ পর্যন্ত ১-১ গোলের ড্র নিয়েই মাঠ ছাড়ে দু’দল।