স্টার নিউজ ডেস্ক:
প্রতিবছরের মতো এবারও শতবছরের সাংবাদিকতার স্মারক প্রতিষ্ঠান সিলেট প্রেসক্লাবের ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।
আজ শুক্রবার বিকেলে ক্লাব ভবনে আয়োজিত ইফতারে সরকারি দলের মন্ত্রী ও সংসদে বিরোধীদলীয় নেতাসহ রাজনীতিবিদ, পেশাজীবী, প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের লোকজন উপস্থিত ছিলেন।
ইফতার পূর্ব আলোচনায় বক্তারা অতীতে সিলেটের অনেক সামাজিক সমস্যার সমাধানে সিলেট প্রেসক্লাবের ভূমিকার কথা স্মরণ করে বলেন, সামাজিক অঙ্গনে সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতি বজায় রাখতে আগামীতেও এই প্রতিষ্ঠান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
সিলেট প্রেসক্লাব সভাপতি মুকতাবিস উন নূরের সভাপতিত্বে ইফতার মাহফিল পূর্ব আলোচনা সভায় অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন- জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান, শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, সিলেট-৬ আসনের সংসদ সদস্য এমরান আহমদ চৌধুরী, সিলেট-৫ আসনের সংসদ সদস্য মুফতি মাওলানা আবুল হাসান, সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী, রাষ্ট্রপতির সাবেক উপদেষ্টা ও ওকাব-এর সাবেক প্রেসিডেন্ট এম মোখলেসুর রহমান চৌধুরী, কমনওয়েলথ জার্নালিস্ট এসোসিয়েশনের বাংলাদেশ চ্যাপ্টারের সভাপতি পারভিন এফ চৌধুরী।
এছাড়া বক্তব্য রাখেন এনবিআরের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সেলের মহাপরিচালক মো. আব্দুর রকিব, সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার আব্দুল কুদ্দুছ চৌধুরী, সিলেটে নিযুক্ত সহকারী ভারতীয় হাইকমিশনার অনিরুদ্ধ রায়, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের উপ-সচিব মোহাম্মদ শামছুল ইসলাম, সিলেটের জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম।
অনুষ্ঠানে জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান সাংবাদিকদের সমাজের ‘চতুর্থ স্তম্ভ’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, একটি সুন্দর সমাজ গঠনে রাজনীতিক ও সাংবাদিকদের ভূমিকা অপরিসীম।
রাজনীতিক ও সাংবাদিকদের ভূমিকার তুলনা করতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘সমাজকে চারটি ডাইমেনশন থেকে দেখতে হয়। রাজনীতিকরা যদি একচোখা হন, তাহলে সাধারণ মানুষ লাভবান হয় না। একইভাবে সাংবাদিকরা যদি সব দিক বিবেচনা না করে খণ্ডিত চিত্র তুলে ধরেন, তবে সমাজে বিভাজন ও সংঘাত তৈরি হয়।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত সাংবাদিকদের উদ্দেশে জামায়াত আমির বলেন, সত্য প্রকাশে আপসহীন থাকতে হবে। সাদাকে সাদা, আর কালোকে কালো বলার সাহস অর্জন করতে হবে। কোনো পক্ষ বা শক্তির ভয় না করে বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনই হবে পেশাদারিত্বের পরিচয়।
অনুষ্ঠানে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী সিলেট-ম্যানচেস্টার ফ্লাইট বন্ধ হবে না মর্মে তার বক্তব্য পুনরুল্লেখ করেন। সিলেটের বেশ কিছু সমস্যার কথা স্বীকার করে তিনি বলেন, সেই সমস্যাগুলো সম্মিলিত প্রচেষ্টায় সমাধানের পথে এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
তিনি জানান, ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের কাজ শুরুর পথে যে ভূমি অধিগ্রহণ সংক্রান্ত জটিলতা ছিল, জেলা প্রশাসকের সাথে আলোচনার মাধ্যমে তার সমাধান হয়েছে। শিগগিরই এই প্রকল্পের কাজ দৃশ্যমান হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। এছাড়া সিলেটে বিমানের ফ্লাইট সংক্রান্ত সমস্যাও দ্রুত দূরীকরণের আশ্বাস দেন তিনি।
সংসদ সদস্য এমরান আহমদ চৌধুরী বলেন, সিলেট-ঢাকার যোগাযোগ ব্যবস্থার দ্রুত উন্নয়ন হবে। আমরা চাই, বিমানের ভাড়া যতটুকু পর্যন্ত কমিয়ে আনা যায়, সেভাবে আনা হোক। ম্যানচেস্টার ফ্লাইট অবশ্যই বন্ধ হবে না, বরং আমরা চাই সিলেট-বার্মিংহামের ফ্লাইটটি চালু করা হোক।
সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, সমাজের প্রগতিতে সাংবাদিকদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। সিলেট প্রেসক্লাবের সাথে নিজের সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্কের বিষয়ে আলোকপাত করেন তিনি।
সিসিক প্রশাসকের দায়িত্ব নেওয়ার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, দায়িত্ব পালনে সাংবাদিকসহ সব মহলের সহযোগিতা চাই। সবার প্রচেষ্টায় আমরা ক্লিন সিটি, গ্রিন সিটি গড়তে চাই।
ইফতার মাহফিলে উপস্থিত ছিলেন সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজের প্রিন্সিপাল ডা. জিয়াউর রহমান চৌধুরী, সিলেট পুলিশ সুপার কাজী আখতারুল আলম, সেন্টার ফর এনআরবি’র চেয়ারপার্সন এমএস সেকিল চৌধুরী, জেলা জামায়াতের আমির মাওলানা হাবিবুর রহমান, মহানগর জামায়াতের আমির ফখরুল ইসলাম, মহানগর বিএনপির সাধারণ ইমদাদ হোসেন চৌধুরী, জেলা বারের সাবেক সভাপতি ও প্রেসক্লাবের আইন উপদেষ্টা এমাদ উল্যাহ শহিদুল ইসলাম, শাবিপ্রবি’র অধ্যাপক ড. সৈয়দ আশরাফুর রহমান,অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক পদ্মাসন সিংহ, ডিজিএফআইর ডেপুটি পরিচালক আবু সাদাত মো. সায়েম, সিলেট চেম্বারের সাবেক সভাপতি খন্দকার সিপার আহমদ প্রমুখ।