চট্টগ্রাম মহানগরী জামায়াতের কর্মপরিষদ বৈঠক অনুষ্ঠিত সারাদেশে নারী ও শিশু নির্যাতন, ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ড বন্ধে কঠোর ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান- মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও চট্টগ্রাম মহানগরীর আমীর মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে চট্টগ্রামসহ সারাদেশে নারী নির্যাতন, ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ড বন্ধে আরও কার্যকর ও কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানান।
আজ (বুধবার) বিকাল ৩টায় চট্টগ্রাম মহানগরী জামায়াতের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত কর্মপরিষদ বৈঠকে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে চট্টগ্রামের হালিশহর, সীতাকুণ্ড, ফেনী, কক্সবাজার উখিয়া, রামপুরা, নরসিংদী, গাইবান্ধা, ও ভোলাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে নারী ও শিশু ধর্ষণ ও পাশবিক নির্যাতনের শিকার হয়েছে; কেউ কেউ প্রাণও হারিয়েছে। প্রশাসন যথাযথভাবে দায়িত্ব পালন করলে এবং দ্রুত ও দৃষ্টান্তমূলক বিচার নিশ্চিত হলে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধ করা সম্ভব হতো বলে তিনি উল্লেখ করেন।
বিশেষ করে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড বোটানিক্যাল গার্ডেন ও ইকোপার্ক এলাকায় সম্প্রতি সংঘটিত এক মর্মান্তিক ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। দুর্গম পাহাড়ি রাস্তায় রক্তাক্ত অবস্থায় এক শিশুকে স্থানীয়রা উদ্ধার করে। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। নিহত শিশু ইরা মনি সীতাকুণ্ড উপজেলার ছোট কুমিরা মাস্টার পাড়া এলাকার নুর হোসেনের মেয়ে। পরিবারের পক্ষে থেকে জানান, মঙ্গলবার ভোর সাড়ে ৪টার দিকে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে আইসিইউতে নেওয়া হয় এবং ভোর সাড়ে ৫টার দিকে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। তার গলায় ও হাতে গভীর ক্ষতচিহ্ন ছিল এবং গুরুতর আঘাতের কারণে সে কথা বলতে পারছিল না।
এছাড়া পাবনার ঈশ্বরদী ও গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে সংঘটিত সাম্প্রতিক ধর্ষণ-পরবর্তী নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ, তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান তিনি।
তিনি বলেন, পাবনার ঈশ্বরদীতে দাদি ও নাতনিকে নির্মমভাবে হত্যা এবং নাতনিকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যার ঘটনা মানবিক মূল্যবোধকে চরমভাবে ভূলুণ্ঠিত করেছে। একইভাবে গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে এক স্কুল শিক্ষিকাকে ধর্ষণের পর হাত-পা বেঁধে হত্যার ঘটনা জাতিকে গভীরভাবে নাড়া দিয়েছে।
মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে নারী ও শিশুদের ওপর ধারাবাহিক ধর্ষণ, হত্যাকাণ্ড ও সহিংসতার ঘটনায় প্রতীয়মান হয় যে দেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটেছে। সরকার নাগরিকদের জানমাল রক্ষায় ব্যর্থতার পরিচয় দিচ্ছে, যা জনমনে গভীর উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা সৃষ্টি করেছে। অপরাধের দ্রুত ও দৃষ্টান্তমূলক বিচার না হওয়ায় অপরাধীরা আরও অপরাধপ্রবণ হয়ে উঠছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
তিনি অবিলম্বে দোষীদের গ্রেফতার, দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং নারী ও শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানান। পাশাপাশি সমাজের সকল স্তরের মানুষকে এ ধরনের অপরাধের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানান।
উক্ত বৈঠকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার সদস্য ও চট্টগ্রাম মহানগরীর সেক্রেটারি অধ্যক্ষ মুহাম্মদ নুরুল আমিনের সঞ্চালনায় এতে আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার সদস্য ও চট্টগ্রাম মহানগরীর এসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি অধ্যক্ষ মাওলানা খাইরুল বাশার, মোহাম্মদ উল্লাহ, ফয়সাল মুহাম্মদ ইউনুস, মহানগরীর এসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি মোহাম্মদ মোরশেদুল ইসলাম চৌধুরী, মহানগরীর সাংগঠনিক সম্পাদক ডা. একেএম ফজলুল হক, ডা. সিদ্দিকুর রহমান, মহানগরী কর্মপরিষদ সদস্য আবু হেনা মোস্তফা কামাল, হামেদ হাসান ইলাহী, প্রফেসর মুহাম্মদ সাইফুল্লাহ আমির হোছাইন, ফখরে জাহান সিরাজী, অধ্যক্ষ মাওলানা জাকের হোসাইন, মাওলানা মমতাজুর রহমান, অধ্যাপক মুহাম্মদ নুর, মাহমুদুল আলম, ফারুকে আজম, প্রফেসর মুহাম্মদ নুরুন্নবী, মুহাম্মদ ইসমাঈল প্রমুখ