ইউকে প্রধানমন্ত্রী স্টারমার্ক সরকারের পতন আসন্ন

জ্যেষ্ঠ ক্যাবিনেট মন্ত্রীরা প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারকে পদত্যাগের একটি সময়সূচী প্রস্তুত করতে বলেছেন।

যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার বর্তমানে বেশ কিছু অভ্যন্তরীণ এবং রাজনৈতিক কারণে চাপের মুখে রয়েছেন। তার পদত্যাগের দাবি বা তীব্র সমালোচনার পেছনে প্রধান কারণগুলো নিচে তুলে ধরা হলো:

স্টারমারের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে যে তিনি এবং তার মন্ত্রিসভার সদস্যরা বিভিন্ন দাতা বা ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে দামী পোশাক, চশমা এবং ফুটবল ম্যাচের টিকিটের মতো অসংখ্য উপহার গ্রহণ করেছেন। যদিও তিনি দাবি করেছেন যে সব নিয়ম মেনেই করা হয়েছে, সাধারণ মানুষ এটাকে দুর্নীতির অংশ হিসেবে দেখছে, বিশেষ করে যখন দেশ অর্থনৈতিক সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।

ক্ষমতায় আসার পরপরই স্টারমার সরকার প্রায় ১০ মিলিয়ন পেনশনভোগীর জন্য ‘উইন্টার ফুয়েল পেমেন্ট’ বা শীতকালীন জ্বালানি ভাতা বাতিল করার সিদ্ধান্ত নেয়। এই সিদ্ধান্তটি সাধারণ মানুষ এবং নিজ দল লেবার পার্টির ভেতরেও তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে। সমালোচকদের মতে, তিনি দরিদ্র বয়স্কদের ওপর অবিচার করছেন।

যুক্তরাজ্যের অর্থনীতি বর্তমানে বেশ নাজুক অবস্থায়। আসন্ন বাজেটে কর বৃদ্ধি এবং জনসেবায় খরচ কমানোর পরিকল্পনা করছে সরকার। স্টারমার সতর্ক করেছেন যে ব্রিটিশদের জন্য “কঠিন সময়” আসছে। এই “অস্টেরিটি” বা কৃচ্ছ্রসাধন নীতির কারণে সাধারণ মানুষের মধ্যে তার জনপ্রিয়তা দ্রুত কমছে।

স্টারমারের চিফ অফ স্টাফ সুয়ে গ্রে-র সাম্প্রতিক পদত্যাগ তার প্রশাসনের ভেতরে বিশৃঙ্খলা এবং অভ্যন্তরীণ কোন্দলের ইঙ্গিত দেয়। ডাউনিং স্ট্রিটের ভেতরে ক্ষমতার লড়াই এবং প্রশাসনিক অদক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

গ্রীষ্মকালে যুক্তরাজ্যে ছড়িয়ে পড়া অভিবাসন বিরোধী দাঙ্গা দমনে স্টারমারের ভূমিকা নিয়ে ডানপন্থীরা সমালোচনা করেছে। তারা মনে করে স্টারমার আসল সমস্যা (অবৈধ অভিবাসন) সমাধান না করে শুধু দমন-পীড়ন চালিয়েছেন।

মূলত নির্বাচনী প্রচারণার সময় দেওয়া প্রতিশ্রুতির সাথে বর্তমান কাজের অমিল, উপহার গ্রহণ নিয়ে নৈতিক বিতর্ক এবং সাধারণ মানুষের ওপর অর্থনৈতিক চাপ প্রয়োগ করার কারণেই কিয়ার স্টারমার চাপের মুখে পড়েছেন। বিরোধী দল কনজারভেটিভ পার্টি এবং সাধারণ জনগণের একটি অংশ এই পরিস্থিতিকে পুঁজি করে তার পদত্যাগের দাবি তুলছে।