স্টার নিউজ ডেস্ক:
এক যুগ পর ভোটে ফিরল চট্টগ্রাম চেম্বার অফ কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রিজ, ব্যবসায়ীদের প্রত্যাশা নতুন নেতৃত্ব গতি পাবে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ।
চট্টগ্রামের ব্যবসায়ী সমাজে দীর্ঘদিন পর প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন নেতৃত্ব নির্ধারণ হয়েছে। দেশের অন্যতম প্রভাবশালী ব্যবসায়ী সংগঠন চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি-এর দ্বিবার্ষিক নির্বাচনে ২৪টি পরিচালক পদের সবকটিতেই জয় পেয়েছে ইউনাইটেড বিজনেস ফোরাম। শনিবার (২৩ মে) বিকেলে নগরীর আগ্রাবাদস্থ ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার-এ ভোট গণনা শেষে আনুষ্ঠানিক ফল ঘোষণা করেন নির্বাচন বোর্ডের চেয়ারম্যান মনোয়ারা বেগম।
এ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে প্রায় এক যুগ পর সরাসরি ভোটের মাধ্যমে চট্টগ্রাম চেম্বারের পরিচালক নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলো। ২০১৩ সালের পর থেকে টানা কয়েকটি মেয়াদে সমঝোতার ভিত্তিতে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় কমিটি গঠিত হয়ে আসছিল। ফলে এবারের নির্বাচন ব্যবসায়ী মহলে ব্যাপক আগ্রহ ও উৎসাহের সৃষ্টি করে।
চেম্বার সূত্রে জানা যায়, এবারের নির্বাচনে মোট ভোটার ছিলেন ৬ হাজার ৭৮০ জন। এর মধ্যে ভোট প্রদান করেন ২ হাজার ৭২৫ জন ভোটার, যা মোট ভোটারের প্রায় ৪০ শতাংশ। যদিও ভোটার উপস্থিতি প্রত্যাশার তুলনায় কম ছিল, তবুও দীর্ঘদিন পর সরাসরি ভোটের সুযোগ পাওয়ায় ব্যবসায়ীদের মধ্যে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করে।
<span;>সাধারণ শ্রেণিতে ভোটার ছিলেন ৪ হাজার ১ জন। এ শ্রেণিতে ভোট পড়েছে ১ হাজার ৮৪৩টি, যা প্রায় ৪৬ শতাংশ। অন্যদিকে সহযোগী শ্রেণিতে মোট ২ হাজার ৭৬৪ জন ভোটারের মধ্যে ভোট দিয়েছেন ৮৮২ জন, যা প্রায় ৩২ শতাংশ।
<span;>নির্বাচনে মোট ১৭টি বুথে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। সাধারণ শ্রেণির একজন ভোটার ১২টি এবং সহযোগী শ্রেণির একজন ভোটার ৬টি করে ভোট দেন। সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়। নির্বাচনে অংশ নেওয়া প্রার্থীদের সমর্থকেরা দিনভর চেম্বার এলাকায় অবস্থান করে প্রচারণা চালান।
চেম্বার বিধি অনুযায়ী সাধারণ শ্রেণি থেকে ১২ জন, সহযোগী শ্রেণি থেকে ৬ জন এবং টাউন অ্যাসোসিয়েশন ও ট্রেড গ্রুপ শ্রেণি থেকে ৩ জন করে মোট ৬ জন পরিচালক নির্বাচিত হন। তবে টাউন ও ট্রেড অ্যাসোসিয়েশন শ্রেণির ৬ জন পরিচালক আগেই বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হওয়ায় কার্যত পুরো পরিচালনা পর্ষদই ইউনাইটেড বিজনেস ফোরামের নিয়ন্ত্রণে চলে যায়।
সাধারণ শ্রেণিতে নির্বাচিত পরিচালকদের মধ্যে রয়েছেন কামাল মোস্তফা চৌধুরী, এএসএম ইসমাইল খান, আবু হায়দার চৌধুরী, মো. আমজাদ হোসাইন চৌধুরী, নাসির উদ্দিন চৌধুরী, আসাদ ইফতেখার, আমান উল্লা আল ছগির, মো. গোলাম সরওয়ার, মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান, মোহাম্মদ শফিউল আলম এবং মোহাম্মদ শহিদুল ইসলাম চৌধুরী। বিজয়ীদের মধ্যে কামাল মোস্তফা চৌধুরী সর্বোচ্চ ১ হাজার ৪০৫ ভোট লাভ করেন।
সহযোগী শ্রেণিতে নির্বাচিত হয়েছেন মো. জাহিদুল হাসান, মো. নুরুল ইসলাম, মো. সেলিম নুর, সরোয়ার আলম খান, মোহাম্মদ মশিউল আলম এবং মোহাম্মদ আলাউদ্দিন আল আজাদ।
এছাড়া ট্রেড গ্রুপ শ্রেণিতে মোহাম্মদ আখতার পারভেজ, মোহাম্মদ আমিরুল হক ও এস এম সাইফুল আলম এবং টাউন অ্যাসোসিয়েশন শ্রেণিতে আফসার হাসান চৌধুরী, মোহাম্মদ মনির উদ্দিন ও মোহাম্মদ সজ্জাদ উন নবাজ বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় পরিচালক নির্বাচিত হন।
নির্বাচন শেষে এখন চেম্বারের সভাপতি, জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি ও সহসভাপতি নির্বাচনকে ঘিরে ব্যবসায়ী মহলে নতুন আলোচনা শুরু হয়েছে। চেম্বার সূত্র জানিয়েছে, আগামী সোমবার (২৫ মে) সকাল সাড়ে ১১টায় প্রেসিডিয়াম নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। সেখানে নির্বাচিত পরিচালকেরা নিজেদের মধ্য থেকে সভাপতি ও দুইজন সহসভাপতি নির্বাচন করবেন।
ব্যবসায়ী মহলের ধারণা, এবারের নির্বাচনের মাধ্যমে চট্টগ্রামের শিল্প, বন্দর, রপ্তানি, আমদানি এবং বিনিয়োগ সংশ্লিষ্ট নানা ইস্যুতে নতুন নেতৃত্ব আরও সক্রিয় ভূমিকা পালন করবে। বিশেষ করে করনীতি, ব্যাংকিং সংকট, ডলার সংকট, এলসি জটিলতা, বন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং শিল্পাঞ্চলের অবকাঠামো উন্নয়ন নিয়ে নতুন পর্ষদের কাছে ব্যবসায়ীদের প্রত্যাশা অনেক বেশি।
ইউনাইটেড বিজনেস ফোরামের দলনেতা ও নবনির্বাচিত পরিচালক মোহাম্মদ আমিরুল হক বলেন,
“আমরা শুরু থেকেই চেয়েছি ব্যবসায়ীরা যেন ভোটের মাধ্যমে তাদের নেতৃত্ব নির্বাচন করতে পারেন। দীর্ঘদিন পর সেই সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। ব্যবসায়ীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ আমাদের অনুপ্রাণিত করেছে।”
তিনি আরও বলেন, নতুন পর্ষদ চট্টগ্রামের ব্যবসা-বাণিজ্যের উন্নয়ন, বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টি এবং ব্যবসায়ীদের স্বার্থ রক্ষায় ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করবে।
ব্যবসায়ী নেতাদের মতে, দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা চট্টগ্রামের বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ডকে আরও গতিশীল করতে এ নির্বাচন নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।
প্রতিদ্বন্দ্বী গ্রুপ নির্বাচন বর্জন করে সংবাদ সম্মেলন করে জানান মামলা মোকদ্দমাকে তোয়াক্কা না করে নির্বাচন কমিশন তড়িঘড়ি করে স্বল্প সময়ের নোটিশে নির্বাচন করায় এবং বিপুল সংখ্যক ভোটার হজ্বব্রত পালন করতে দেশের বাইরে থাকায় তারা ভোট প্রয়োগ করতে পারেনি। তারা এই নির্বাচনকে একতরফা ও প্রহসনের নির্বাচন আখ্যায়িত করে ঈদের পর নতুন নির্বাচন দেওয়ার জন্য জোর দাবি জানান।