স্টার নিউজ ডেস্ক:
শিশু রামিসা আক্তার হত্যার বিচার দ্রুত শেষ করার দাবি তুলে জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান বলেছেন, বিচারকে ‘দীর্ঘসূত্রতায়’ ফেলতে অভিযুক্তরা এখন আরো নাম বলছে; তার ভাষায় এটি একটি ‘চক্রান্ত’।
সোমবার বিকেলে রাজধানীতে জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রামিসার বাবার সঙ্গে সাক্ষাৎ করে তার খোঁজখবর নেন জামায়াত আমির। হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে সোমবার সকালে হাসপাতালে ভর্তি হন রামিসার বাবা হান্নান মোল্লা।
পরে সাংবাদিকদের শফিকুর রহমান বলেন, “আমরা বাংলাদেশের জনগণের পক্ষ থেকে দাবি জানাই, রামিসা হত্যাকাণ্ডের বিচার অতি দ্রুত সম্পন্ন করতে হবে। কোনো আলামতের প্রয়োজন নেই, আলামত স্পষ্ট। অভিযুক্ত ও তার স্ত্রী কোনভাবেই রেহাই পেতে পারে না। এ দুজনকে বিচারের আওতায় আনতে হবে।
“এখন ধানাই পানাই করে আরো কারো নাম বলতে পারে বিচারকে দীর্ঘসূত্রিতায় ফেলতে। এটি একটি চক্রান্ত। রামিসার বিচার নিয়ে কোনো তামাশা করা হোক, আমরা তা চাই না।’
সোমবারই সকালে হজ শেষে সৌদি আরব থেকে দেশে ফেরেন শফিকুর রহমান। বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, আগামী ৭ জুন বাজেট অধিবেশন শুরু হবে। ওই দিন রামিসা হত্যার বিচার দ্রুত করার বিষয়টি তিনি সংসদে উত্থাপন করবেন।
তিনি বলেন, “আমাদের দাবি স্পষ্ট–যারা এ ধরনের ঘৃণ্য ও বর্বরোচিত কর্মকাণ্ডের সাথে জড়িত, তাদের কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া যাবে না। যারা এভাবে আত্মস্বীকৃত ধর্ষণকারী ও হত্যাকারী এদের বিচার লম্বা হওয়া মানে হলো, এদেরকে সহযোগিতা করা। অন্যায়ের পক্ষ নেওয়া, দুস্কৃতকারীর পক্ষ নেওয়া।
“শুধু রামিসার জন্য না, এ দেশের প্রত্যেকটি মেয়ের বাবা, দাদা ও নানা হয়ে আমি দাঁড়াব, ইনশাআল্লাহ। লড়াই চলবে, এ লড়াইয়ে মানবতার বিজয় হবে।’
গত ১৯ মে দুপুরে পল্লবীর ১১ নম্বর সেকশনের বি ব্লকের একটি ভবনের ফ্ল্যাট থেকে শিশু রামিসার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। সেই ঘটনা সারা দেশে ব্যাপক ক্ষোভের জন্ম দেয়।
পুলিশ বলেছে, ওইদিন সকালে পাশের ফ্লাটের বাসিন্দা ৩২ বছরের সোহেল শিশুটিকে গলা কেটে হত্যার পর মাথা শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলে। এরপর ফ্ল্যাটের সাবলেট এই ভাড়াটে গ্রিল কেটে পালিয়ে যান। তবে তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার ঘরেই ছিলেন।
পুলিশ বাসা থেকে স্বপ্নাকে আটক করে। পরে সন্ধ্যায় সোহেলকে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।
সেদিনই রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা দুজনকে আসামি করে পল্লবী থানায় মামলা করেন। আসামি সোহেল রানা ‘দোষ স্বীকার করে’ আদালতে জবানবন্দি দেন।
পাঁচ দিন তদন্ত করেই গত ২৪ মে দুজনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্লবী থানার এসআই অহিদুজ্জামান। এরপর সোমবার ঢাকা মহানগরের শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনাল সোহেল ও তার স্ত্রী স্বপ্নার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে তাদের বিচার শুরুর আদেশ দেন।
সোহেল আদালতে কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে বলেন, তিনি শুধু রামিসাকে ‘দুই টুকরো’ করেছেন। ধর্ষণ এবং হত্যা করেছে ডলার নামে মিরপুরের এক ব্যক্তি।
জামায়াত আমির আইনজীবীদের উদ্দেশে বলেন, “আত্মস্বীকৃত এ ধরনের অপরাধীর পক্ষে কোনো আইনজীবী যেন আদালতে না দাঁড়ায়। আমি আহ্বান জানাব, এ বিষয়টি নিয়ে কেউ যেন কোনো ধরনের রাজনীতি না করেন। এটা আমাদের ইজ্জত বাঁচানোর লড়াই। এই মেয়ে আমাদের ক্ষমা করবে না, যদি বিচার সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন না হয় এবং রায় কার্যকর না করা হয়।”
রাসিমার বাবাকে দেখতে যাওয়ার সময় জামায়াত আমিরের সঙ্গে ছিলেন দলের ঢাকা মহানগর উত্তরের আমির সেলিম উদ্দিন, নির্বাহী পরিষদ সদস্য মোবারক হোসাইন, আবদুল বাতেন এমপিসহ অন্যান্য নেতারা।