চট্টগ্রামে বন্যার পানি নামলেও বানভাসিদের দুর্ভোগ কমেনি, ক্ষতিগ্রস্ত হাজার হাজার ঘরবাড়ি, কয়েক শত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান

স্টার নিউজ ডেস্ক:
চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও বান্দরবানে বন্যার পানি নামলেও বানভাসিদের দুর্ভোগ ও দুর্দশা কমেনি। পানি কমে যাওয়ায় অনেক বাসিন্দা ঘরবাড়ি পরিষ্কার–পরিচ্ছন্ন করা ও স্বাভাবিক জীবনে ফেরার চেষ্টা শুরু করেছেন। দুর্গত এলাকার বাসিন্দারা জানিয়েছেন, পানি নেমে যাওয়ার পর কাদাভরা ঘর এবং বাড়িজুড়ে ময়লা–আবর্জনা নতুন দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। অনেক জায়গায় গ্রামীণ ও অভ্যন্তরীণ সড়ক এখনো পানির নিচে তলিয়ে আছে। সড়ক যোগাযোগ পুরোপুরি সচল না থাকায় দুর্দশায় পড়া মানুষের কাছে জরুরি ত্রাণসামগ্রী ও প্রয়োজনীয় মালামাল পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়েছে।
বন্যায় চট্টগ্রাম জেলার বিভিন্ন উপজেলায় প্রায় হাজার হাজার বসতঘর এবং শত শত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া প্রায় ১ হাজার ৩২০ কিলোমিটার সড়ক এবং ১৪৫টি সেতু ও কালভার্ট ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার তথ্য উঠে এসেছে জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যালয়ের সর্বশেষ প্রতিবেদনে। জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা বলেন, ‘এক সপ্তাহের টানা বৃষ্টিতে চট্টগ্রাম মহানগরসহ বিভিন্ন উপজেলায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে ত্রাণ বিতরণ এবং পুনর্বাসনে সরকারের পক্ষ থেকে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।


চট্টগ্রাম নগরী ও বিভিন্ন উপজেলায় পাহাড় ধস, দেয়াল চাপা পড়ে এবং পানিতে ডুবে ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। ৫ জুলাই থেকে টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে সাতকানিয়া, বাঁশখালী, লোহাগাড়া ও চন্দনাইশসহ দক্ষিণ চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকা প্লাবিত হয়। জেলা প্রশাসনের হিসাবে, সবচেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বাঁশখালী ও সাতকানিয়া উপজেলায়। বাঁশখালীর ১৪টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার প্রায় ৬০ শতাংশ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। সেখানে ৪ হাজার ৫১৯টি বসতঘর এবং প্রায় ৩৫০ কিলোমিটার সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সাতকানিয়ার ১৭টি ইউনিয়ন ও পৌরসভার প্রায় ৮৫ শতাংশ এলাকা পানিতে তলিয়ে যায়। উপজেলাটিতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ২ হাজার ৪৮০টি বসতঘর, ৬৫টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ১৮৭ কিলোমিটার সড়ক এবং ৯টি সেতু ও কালভার্ট। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বন্যার এ দুর্যোগে বাঁশখালী ও সাতকানিয়ায় তিনজন করে মোট ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে। জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যালয়ের হিসাবে, চট্টগ্রাম মহানগরের ২৪টি ওয়ার্ডের প্রায় ৪০ শতাংশ এলাকা জলাবদ্ধতার শিকার হয়েছে। এতে ২ হাজার ২৪৬টি বসতঘর, ৫০টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং ১২৪ কিলোমিটার সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। মহানগরে দুইজন এবং সীতাকুণ্ড, হাটহাজারি ও রাঙ্গুনিয়ায় একজন করে মোট পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে।
পাহাড়ি ঢল ও অতিবৃষ্টির কারণে বাঁশখালী উপজেলার অভ্যন্তরীণ যোগাযোগ ব্যবস্থা সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছে। একদিকে প্রধান সড়কের কয়েকটি স্থানে ভাঙ্গন ও ফাটলের কারণে চরম ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে, অন্যদিকে উপজেলার অধিকাংশ গ্রামীণ ও অভ্যন্তরীণ সড়ক এখনো পানির নিচে তলিয়ে আছে। সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় দুর্দশায় পড়া মানুষের কাছে জরুরি ত্রাণসামগ্রী ও প্রয়োজনীয় মালামাল পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়েছে।