
স্টার নিউজ ডেস্ক: যশোর-৪ (বাঘারপাড়া-অভয়নগর) আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক গোলাম রসুলের বাড়িতে হামলার ঘটনায় জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আজ বুধবার বিকেলে এক সমঝোতা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় উভয় পক্ষ আপসে সম্মত হয়েছে বলে জেলা প্রশাসন জানালেও, সভা শেষে মাদ্রাসার শিক্ষক ও অভিভাবকেরা বিক্ষোভ করেন। এ সময় এমপি গোলাম রসুল ও পুলিশ সুপার সৈয়দ রফিকুল ইসলামের গাড়িবহর প্রায় এক ঘণ্টা অবরুদ্ধ থাকে।
যশোর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সভায় উপস্থিত ছিলেন অধ্যাপক গোলাম রসুল, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশেক হাসান, পুলিশ সুপার সৈয়দ রফিকুল ইসলাম, যশোর জেলা পরিষদের প্রশাসক দেলোয়ার হোসেন খোকন এবং মাদ্রাসার শিক্ষক নাসির উদ্দীন। সভায় উভয় পক্ষ তাদের বক্তব্য তুলে ধরেন। এমপি গোলাম রসুল মঙ্গলবারের ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন। জেলা প্রশাসক আশেক হাসান সাংবাদিকদের বলেন, এমপি সাহেবের পরিবারের সঙ্গে মাদ্রাসার কর্তৃপক্ষের আগে থেকেই ভুল বোঝাবুঝি ছিল।
অধ্যাপক গোলাম রসুল সাংবাদিকদের জানান, তিনি জনগণের জন্য কাজ করেন এবং কওমি মাদ্রাসার জন্য সংসদে কথা বলেছেন। তিনি বলেন, হামলার ঘটনায় তার বাসার ক্ষতি হয়েছে এবং তার মেয়ে আহত হয়েছে। তিনি একটি অভিযোগ দিয়েছেন, তবে তিনি তাদের ক্ষমা করে দিয়েছেন।
সভা শেষে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে বের হওয়ার সময় মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের অভিভাবক ও শিক্ষকেরা বাধার মুখে পড়েন। তারা বিক্ষোভ করে দাবি করেন, জেলা প্রশাসনের সভায় তারা ন্যায়বিচার পাননি। এমপির মেয়ে মেহেজাবিন জান্নাত অনন্যার শাস্তি দাবি করে তারা গাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে যান। পরে পুলিশ সদস্যরা বিক্ষোভকারীদের সরিয়ে দিলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
ঘটনার সূত্রপাত মঙ্গলবার সকালে যশোর শহরের নীলগঞ্জ সুপারিবাগান এলাকায়। সেখানে এমপি গোলাম রসুলের মেয়ে মেহেজাবিন জান্নাত অনন্যার বিরুদ্ধে এক শিশু ও অভিভাবককে মারধরের অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ জনতা এমপির বাড়ি ঘেরাও করে বিক্ষোভ করেন এবং হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করেন।