স্টার নিউজ ডেস্ক:
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ফারসি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগ এবং চট্টগ্রামের দারুল ইরফান রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (ডিরি) যৌথ উদ্যোগে ‘সুফি সংস্কৃতি: মধ্যপ্রাচ্য, পশ্চিম আফ্রিকা ও বাংলাদেশ’ (আইসিএসসি ২০২৬) শীর্ষক ৮ম আন্তর্জাতিক কনফারেন্স অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা অনুষদস্থ আর সি মজুমদার আর্টস অডিটোরিয়ামে এই কনফারেন্স আয়োজিত হয়।
ফারসি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের চেয়ারম্যান ড. মো. মুমিত আল রশিদের সভাপতিত্বে উদ্বোধনী পর্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. এম. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বরিশালের গ্লোবাল ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ এর উপাচার্য ইমেরিটাস অধ্যাপক ড. আনিসুজ্জামান এবং বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. শাহাদাত হোসাইন। দারুল ইরফান রিসার্চ ইনস্টিটিউটের ম্যানেজিং ট্রাস্টি শাহজাদা সৈয়দ ইরফানুল হক অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন এবং কনফারেন্স আয়োজক কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মুহসীন উদ্দীন মিয়া শুভেচ্ছা বক্তব্য প্রদান করেন। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সহযোগী অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আহসানুল হাদী। কনফারেন্সের উদ্বোধনী সেশনে মূল প্রবন্ধ (কী-নোট) উপস্থাপন করেন বাহরাইনের সুন্নী শরীয়াহ বোর্ডের প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি ড. ইব্রাহিম আল-শেখ রশিদ আল-মুরাইখী এবং মিশরের আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. জামাল ফারুক জিবরিল মাহমুদ। ড. মুরাইখীর প্রবন্ধের বিষয় ছিল “সুফিজম ইন দ্য আরব গালফ স্টেটস: এ কেস স্টাডি অফ দ্য খালিদি নক্সশবন্দী অর্ডার” এবং ড. জামাল ফারুকের প্রবন্ধের বিষয় ছিল “ দ্য জুরিসপ্রুডেন্সিয়াল ভিশন অব আল-আজহার আল-শরীফ অন দ্য ইস্যু অব সেমা”।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. এম. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, বর্তমান সংকটময় বিশ্বে শান্তি প্রতিষ্ঠায় সুফি সাধকদের মানবপ্রেমের বাণী প্রচার করা জরুরি। সামাজিক মূল্যবোধের অবক্ষয় রোধে সুফি সংস্কৃতির চর্চা ও গবেষণা আরও জোরদার করার ওপর তিনি বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।
তিনি বলেন, মাওলানা জালালুদ্দীন রুমি, মোহাম্মদ হাফিজ শিরাজী ও জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সাম্য এবং মানবপ্রেমের দর্শন এক্ষেত্রে সহায়ক ভূমিকা পালন করতে পারে। সমাজে শান্তি ও সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠায় এগিয়ে আসার জন্য তিনি গবেষকদের প্রতি আহ্বান জানান।
এছাড়া কনফারেন্সে ফরিদউদ্দিন আত্তার নিশাপুরি রচিত গ্রন্থ ‘মুসিবতনামা’র বাংলায় অনূদিত বইয়ের মোড়কও উন্মোচন করা হয়।
উদ্বোধনী পর্ব শেষে দুপুর ১২টায় শুরু হয় দ্বিতীয় বা একাডেমিক সেশন। অধ্যাপক ড. শাহ কাওসার মুস্তাফা আবুলউলায়ীর সভাপতিত্বে এই পর্বে আলোচক হিসেবে অংশ নেন অধ্যাপক ড. কে এম সাইফুল ইসলাম খান ও ড. আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ। এই সেশনে আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে সুফিবাদের ধর্মতাত্ত্বিক, সামাজিক ও সাহিত্যিক প্রভাব বিষয়ক গবেষণাপত্র উপস্থাপন করেন সিরিয়ার দামেস্ক বিশ্ববিদ্যালয়ের ফারসি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. ফেইরোজ আসাদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ফারসি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মেহেদী হাসান, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় কুষ্টিয়ার বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ড. ইয়াসমিন আরা সাথী এবং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শেখ সাদী।
ডিরির মেম্বার সেক্রেটারি ও চিটাগং ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইউনিভার্সিটির সহযোগী অধ্যাপক ড. কাজী সাইফুল আচফিয়া ছাড়াও বিভিন্ন বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক, গবেষক ও শিক্ষার্থীরা আন্তর্জাতিক এই কনফারেন্সে অংশগ্রহণ করেন।
মাইজভাণ্ডার গাউছিয়া আহমদিয়া মঞ্জিলের সাজ্জাদানশীন হযরত মওলানা শাহছুফী সৈয়দ এমদাদুল হক মাইজভাণ্ডারী দারুল ইরফান রিসার্চ ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠা করেন। ডিরি ইতোমধ্যে দেশে ও দেশের আন্তর্জাতিক কনফারেন্স, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ও সিলেট শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে গাউছুল আজম মাইজভাণ্ডারী সৈয়দ আহমদ উল্লাহ (ক.) স্মারক বক্তৃতা, আলোকচিত্রের মাধ্যমে সুফিজমকে বর্তমান প্রজন্মের কাছে তুলে ধরার লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক ছবি প্রতিযোগিতা এবং চট্টগ্রাম, খুলনা ও সিলেটে প্রদর্শনীর আয়োজন করেছে।