স্টার নিউজ ডেস্ক:
ঢাকায় নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন বাংলাদেশ-চীন সম্পর্কের ‘আরও উজ্জ্বল’ ভবিষ্যতের বিষয়ে দৃঢ় আস্থা প্রকাশ করে বলেছেন, কোনো বাধাই দুই দেশের মধ্যকার বন্ধুত্ব ও সহযোগিতার অগ্রযাত্রাকে রোধ করতে পারবে না।
বুধবার সন্ধ্যায় গণপ্রজাতন্ত্রী চীনের ৭৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ঢাকায় আয়োজিত এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী ড. আব্দুল মঈন খান প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।
রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন বলেন, চীন-বাংলাদেশ বন্ধুত্ব উভয় দেশ ও জনগণের মৌলিক স্বার্থের অনুকূল এবং যুগের দাবির সঙ্গে সংগতিপূর্ণ। কোনো ঝড়-ঝাপটাই আমাদের সম্পর্কের এই সম্মুখযাত্রাকে থামিয়ে দিতে পারবে না।
অনুষ্ঠানে সরকার ও বিরোধী দলের বর্তমান ও সাবেক মন্ত্রী, ক্ষমতাসীন ও বিরোধী দলের জ্যেষ্ঠ রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, ঢাকায় নিযুক্ত বিভিন্ন দেশের কূটনীতিক, ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি এবং জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।
ইয়াও প্রায় চার বছর দায়িত্ব পালনের পর আগামী মাসের শুরুতে বাংলাদেশ ছাড়তে যাচ্ছেন, তিনি এ সুযোগে বাংলাদেশে প্রত্যক্ষ করা রূপান্তর এবং তার মেয়াদকালে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের অগ্রগতির বিষয় তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, পেছনের দিনগুলোর দিকে তাকালে মন আবেগাপ্লুত হয়ে ওঠে। আমি বাংলাদেশে তিন বছর নয় মাস দায়িত্ব পালন করেছি এবং কদিন পরই এই কর্মস্থল থেকে বিদায় নেব।
রাষ্ট্রদূত আরও বলেন, যখন চলে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছি, তখন মন গভীর মায়া ও বিদায়ের ব্যথায় ভারাক্রান্ত।
ইয়াও জানান, তিনি ব্যক্তিগতভাবে বাংলাদেশের রাজনৈতিক রূপান্তর এবং সংকটময় মুহূর্তে দেশটির নেওয়া ‘ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তগুলোর’ সাক্ষী।
তিনি বাংলাদেশের মানুষের দৃঢ়তা ও জাতীয় মর্যাদাবোধের প্রশংসা করে বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে দেশটি সংস্কার ও উন্নয়নের এক নতুন পথে যাত্রা শুরু করেছে।
রাষ্ট্রদূত বিশেষ করে বাংলাদেশের তরুণ প্রজন্মের সম্ভাবনার ওপর জোর দেন। তিনি বলেন, গত তিন বছরে আমি ঢাকার অলিগলিতে হেঁটেছি, আর আমাকে সবচেয়ে বেশি মুগ্ধ করেছে এ দেশের তরুণদের আশাবাদ ও উদ্যম।
তরুণরা একটি জাতির সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ এবং ভবিষ্যৎ অভিহিত করে ইয়াও বলেন, ‘বাংলাদেশের উজ্জ্বল আগামীর বিষয়ে আমি পুরোপুরি আস্থাশীল।’
রাষ্ট্রদূত জানান, দায়িত্ব পালনকালে বাংলাদেশিদের সঙ্গে তার মেলামেশা দুই দেশের জনগণের বন্ধুত্বের অভিজ্ঞতা তাকে সরাসরি উপলব্ধি করিয়েছে। তিনি বলেন, আমি যেখানেই গিয়েছি, সেখানকার আন্তরিক অভ্যর্থনা ও অমলিন হাসি চীনা জনগণের প্রতি বাংলাদেশিদের হৃদয়ের গভীরের বন্ধুত্ব আমাকে অনুভব করিয়েছে।
ইয়াও বলেন, বাংলাদেশে কর্মকালীন সময়ে গড়ে ওঠা বন্ধুত্বের স্মৃতি তার সঙ্গে চিরকাল থাকবে। তিনি শুভকামনা জানিয়ে বলেন, চীন-বাংলাদেশের বন্ধুত্ব চিরসবুজ থাকুক, আমাদের উভয় দেশ সমৃদ্ধ হোক এবং আমাদের জনগণ সুখ ও শান্তিতে থাকুক।
রাষ্ট্রদূত উল্লেখ করেন, ২০২৬ সাল বাংলাদেশ ও চীনের কূটনৈতিক সম্পর্কের ৫১তম বার্ষিকী এবং বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভের অধীনে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতার ১০ বছর পূর্তির বছর। এছাড়া চলতি বছর চীনা কমিউনিস্ট পার্টির প্রতিষ্ঠার ১০৫তম বার্ষিকী বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশের জাতীয় স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতা রক্ষায় বেইজিংয়ের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন এবং একই সঙ্গে যেকোনো বাহ্যিক হস্তক্ষেপের বিরোধিতা করে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিষয়ে ঢাকা বড় ভূমিকা পালন করবে বলে আশা প্রকাশ করেন।
রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দায়িত্ব গ্রহণের পর তার প্রথম সরকারি চীন সফরের কথাও বিশেষভাবে তুলে ধরেন।
চীন ও বাংলাদেশ গত জুন মাসের সফরে তাদের সমগ্র কৌশলগত সহযোগিতা অংশীদারিত্বকে আরও উচ্চতায় উন্নীত করার বিষয়ে একমত হয়েছে এবং চীনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে তারা যৌথভাবে ‘নতুন যুগে অভিন্ন ভবিষ্যতের জন্য চীন-বাংলাদেশ কমিউনিটি’ গড়ে তুলবে।
ইয়াও বলেন, এই উন্নয়ন দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের দীর্ঘমেয়াদি অগ্রযাত্রায় নতুন গতি সঞ্চার করেছে।
বেইজিং বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, অবকাঠামো, কৃষি, ডিজিটাল অর্থনীতি এবং সবুজ জ্বালানির ক্ষেত্রে বাংলাদেশের সঙ্গে বাস্তবসম্মত সহযোগিতা গভীর করার পাশাপাশি আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিষয়ে নিজেদের মধ্যে সমন্বয় জোরদার করতে চায় বলেও তিনি জানান।
এ সময় ইয়াও বলেন, চীন-বাংলাদেশ সম্পর্ক বর্তমানে ইতিহাসের সেরা অবস্থানে রয়েছে। আগামী দিনেও দুই দেশের বন্ধুত্ব ও সহযোগিতা আরও সম্প্রসারিত হবে বলে তিনি দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেন।