স্টার নিউজ ডেস্ক:
মরক্কোর প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন ফাতিমা ইজ্জাহরা আল মানসুরি। দেশটির সদ্য অনুষ্ঠিত সংসদীয় নির্বাচনে তার মধ্যপন্থী দল অথেন্টিসিটি অ্যান্ড মডার্নিটি পার্টি (পিএএম) সবচেয়ে বেশি আসন পাওয়ার পর বাদশাহ ষষ্ঠ মোহাম্মদ তাকে সরকারপ্রধান হিসেবে নিয়োগ দেন।
৫০ বছর বয়সী ফাতিমা ইজ্জাহরা আল মানসুরি পেশায় আইনজীবী। তিনি দীর্ঘদিন মরক্কোর মারাকেশ শহরের মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০০৯ সালে প্রথম নারী হিসেবে শহরটির মেয়র নির্বাচিত হন তিনি। ২০২১ সালের নির্বাচনের পর আবারও মেয়রের দায়িত্বে ফেরেন। এর আগে তিনি জাতীয় ভূখণ্ড পরিকল্পনা, নগর পরিকল্পনা, আবাসন ও নগরনীতি বিষয়ক মন্ত্রী হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।
তার নিয়োগের মধ্য দিয়ে আরব বিশ্বের দ্বিতীয় নারী সরকারপ্রধান হলেন আল মানসুরি। এর আগে তিউনিসিয়ার নাজলা বুদেন আরব বিশ্বের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
মরক্কো সাংবিধানিক রাজতন্ত্র হলেও দেশটির গুরুত্বপূর্ণ ক্ষমতার একটি বড় অংশ বাদশাহর হাতে রয়েছে। সংবিধান অনুযায়ী, প্রতিনিধি পরিষদের নির্বাচনে সবচেয়ে বেশি আসন পাওয়া দলের মধ্য থেকে বাদশাহ সরকারপ্রধান নিয়োগ করেন।
তবে পিএএম ৩৯৫ আসনের সংসদে ৯৭টি আসন পেয়েছে, যা একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য প্রয়োজনীয় ১৯৮ আসনের চেয়ে অনেক কম। ফলে সরকার গঠনে দলটিকে অন্য দলগুলোর সঙ্গে জোট করতে হবে। বিদায়ী সরকারের প্রধান অংশীদার ন্যাশনাল র্যালি অব ইন্ডিপেনডেন্টসের (আরএনআই) সঙ্গে পিএএমের সম্পর্কের অবনতি হওয়ায় জোট গঠন নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে।
এদিকে ইসলামপন্থী জাস্টিস অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টি (পিজেডি) এবারের নির্বাচনে ৫৪টি আসন পেয়েছে, যেখানে আগের নির্বাচনে দলটির আসন ছিল মাত্র ১৩টি। দলের নেতা ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী আবদেলিলাহ বেনকিরানের নেতৃত্বে পিজেডি নির্বাচনে ঘুরে দাঁড়ালেও তিনি জানিয়েছেন, দলটি বিরোধী দলে থাকবে এবং পিএএমের সঙ্গে জোট করবে না।
রাজনীতিতে আসার পর থেকে আল মানসুরি মরক্কোর অন্যতম প্রভাবশালী নারী রাজনীতিক হিসেবে পরিচিতি পেয়েছেন। ২০০৮ সালে পিএএম প্রতিষ্ঠার পর তিনি রাজনীতিতে সক্রিয় হন। রাবাতের মোহাম্মদ পঞ্চম বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা শেষে ফ্রান্স ও যুক্তরাষ্ট্রে ব্যবসা ও করপোরেট আইন বিষয়ে উচ্চশিক্ষা নেন। ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে তিনি পিএএমের নেতৃত্ব জোটের সমন্বয়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
সূত্র: বিবিসি