স্টার নিউজ ডেস্ক:
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে যুদ্ধ শুরু করার সময়ের তুলনায় ইরানের সামরিক বাহিনী বর্তমানে অধিক শক্তিশালী এবং আরও বেশি উজ্জীবিত বলে সতর্ক করে দিয়েছে তেহরান। শনিবার ইরানের সামরিক বাহিনীর এক মুখপাত্রের বরাত দিয়ে দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম আইআরএনএর খবরে এই সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে।
দেশটির সামরিক বাহিনীর মুখপাত্র মোহাম্মদ আকরামিনিয়া বলেছেন, আজকে ইসলামিক প্রজাতন্ত্রের সশস্ত্র বাহিনী... যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি শাসকদের সাথে সরাসরি সংঘাত থেকে অভিজ্ঞতা অর্জন করে আগের চেয়ে উচ্চ সতর্কাবস্থায় রয়েছে এবং যুদ্ধের শুরুর দিকের তুলনায় তারা এখন আরও বেশি শক্তিশালী।
তিনি বলেন, ‘‘ইরানের সামরিক বাহিনীর সদস্যদের মাঝে বর্তমানে আরও বেশি প্রেরণা, প্রতিশ্রুতি ও আত্মবিশ্বাস দেখা যাচ্ছে।’’
ফেব্রুয়ারির শেষের দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ব্যাপক বিমান হামলার মাধ্যমে ইরানের সঙ্গে ওই যুদ্ধ শুরু হয়; যা গত কয়েক মাস ধরে চরম অচলাবস্থায় রয়েছে। তেহরান হরমুজ প্রণালি দিয়ে নৌ চলাচল সীমিত করার চেষ্টা করেছে। এই প্রণালি দিয়ে স্বাভাবিক সময়ে বিশ্বব্যাপী মোট তেল ব্যবহারের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ পরিবহন করা হয়।
আকরামিনিয়া বলেছেন, এই কৌশলগত জলপথের ওপর ইরানি সশস্ত্র বাহিনীর নিয়ন্ত্রণ বহাল রয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্র তেহরানের দাবি মেনে না নেওয়া পর্যন্ত এটি বন্ধই থাকবে।
তিনি বলেন, সর্বোচ্চ নেতার নির্দেশ অনুযায়ী, সশস্ত্র বাহিনীর প্রতিক্রিয়া হবে তাৎক্ষণিক, কার্যকর এবং কোনো ভৌগোলিক সীমাবদ্ধতা ছাড়া।
হরমুজ প্রণালির ইরানি দ্বীপ কেশমে হামলার খবর আমেরিকান গণমাধ্যমে আসার পর চলতি সপ্তাহে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানে নতুন করে বিমান হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। কেশম দ্বীপে দুটি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে। তবে সেখানে ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি।
ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন ওই দ্বীপে দুটি বিস্ফোরণের খবর নিশ্চিত করেছে।
দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম বলছে, শনিবার ভোরের দিকে ইরানি সেনাবাহিনী আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে দ্বীপের ওপর উড়তে থাকা একটি মার্কিন ড্রোনকে আঘাত হেনে ধ্বংস করেছে। তবে সেখানে দ্বীপটিতে হামলা চালানো হয়েছে কি না সে বিষয়ে কিছু জানায়নি তেহরান।
সূত্র: এএফপি।