ফ্যামিলি কার্ড সম্পূর্ণ বিনামূল্যে, টাকা চাওয়ার সুযোগ নেই : ডা. এজেডএম জাহিদ

স্টার নিউজ ডেস্ক:
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) স্থায়ী কমিটির সদস্য এবং সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রী ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন বলেছেন, সরকারের ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচি সম্পূর্ণ বিনামূল্যে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে এবং এ কার্ড প্রদানের নামে কোথাও টাকা চাওয়ার কোনো সুযোগ নেই।
তিনি বলেন, ‘এ বিষয়ে কেউ প্রতারণার চেষ্টা করলে সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহায়তায় তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
আজ মঙ্গলবার সন্ধ্যায় রাজধানীর ধানমন্ডি এলাকায় নিজ বাসভবনে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিপরিষদ কমিটির সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কার্যক্রম আগামী ১০ মার্চ আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হবে। ইনশাআল্লাহ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ওইদিন এ কর্মসূচির শুভ উদ্বোধন করবেন।
ডা. জাহিদ বলেন, প্রাথমিকভাবে বাংলাদেশের ১৪টি উপজেলায় এ কর্মসূচি চালু করা হচ্ছে। এ লক্ষ্যে প্রতিটি উপজেলায় ইউনিয়ন পর্যায়ে, ওয়ার্ড পর্যায়ে এবং শহরাঞ্চলে সিটি করপোরেশন ভিত্তিক সমন্বয় কমিটি গঠন করা হয়েছে। প্রতিটি কমিটিতে একজন করে প্রথম শ্রেণির কর্মকর্তা দায়িত্ব পালন করছেন। বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সংস্থার কর্মকর্তা-কর্মচারীরা নিজ নিজ দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করছেন।
তিনি বলেন, “বিএনপি দীর্ঘদিন ধরে জনগণের কল্যাণে কাজ করে আসছে, বিশেষ করে নারীদের ক্ষমতায়ন ও আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী করে তোলার লক্ষ্যে। একটি পরিবারকে আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী করার মাধ্যমে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে একটি সুন্দর বাংলাদেশ গড়ার উপযোগী করে তুলতেই ‘ফ্যামিলি কার্ড’ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কিন্তু দুঃখজনকভাবে একটি মহল এ কর্মসূচিকে বিতর্কিত করার চেষ্টা করছে।”
মন্ত্রী অভিযোগ করে বলেন, কিছু এলাকায় নিরীহ মানুষের কাছ থেকে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ দেওয়ার নামে টাকা চাওয়ার খবর পাওয়া যাচ্ছে। এমনকি যেসব এলাকায় এখনো এ কর্মসূচি শুরু হয়নি, সেখানেও টাকা দাবি করা হচ্ছে বলে তথ্য পাওয়া গেছে।
তিনি বলেন, ‘ফ্যামিলি কার্ড সবার জন্য উন্মুক্ত এবং এটি সম্পূর্ণ বিনামূল্যে দেওয়া হবে। ধর্ম, বর্ণ, গোত্র কিংবা রাজনৈতিক বিশ্বাস নির্বিশেষে প্রত্যেক নির্ধারিত পরিবারের নারী প্রধানের হাতে এই কার্ড পৌঁছে দেওয়া হবে।’
ডা. জাহিদ বলেন, এই কার্ড পাওয়ার জন্য কোনো তদবির, প্রতিযোগিতা বা সুপারিশের প্রয়োজন নেই। কেউ বাদ পড়বে না, আবার কেউ অতিরিক্ত সুযোগও পাবে না। ধাপে ধাপে এ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হবে। প্রথমে একটি ওয়ার্ড, পরে পর্যায়ক্রমে একাধিক ওয়ার্ড, উপজেলা এবং শেষ পর্যন্ত সারা দেশে এটি বিস্তৃত হবে। আগামী চার বছরের মধ্যে দেশের সব পরিবারের কাছে ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে।
তিনি জানান, ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে দেশে একটি সমন্বিত তথ্য সংগ্রহ ব্যবস্থা (ইন্টিগ্রেটেড সিস্টেম অব ইনফরমেশন কালেকশন) গড়ে তোলা হবে। প্রথমে তথ্যগুলো সরাসরি মাঠপর্যায়ে সংগ্রহ করা হবে, পরে সেগুলো সফটওয়্যার ভিত্তিক স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থায় অন্তর্ভুক্ত করা হবে। এতে স্বচ্ছতার কোনো ঘাটতি থাকবে না এবং অন্তর্ভুক্তি বা বর্জনের কোনো সুযোগ থাকবে না। সম্ভাব্য ত্রুটি শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনার সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হচ্ছে।
মন্ত্রী বলেন, এই কর্মসূচি সরকারের একটি প্রধান নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নের পথে এগিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু কেউ কেউ এটিকে বাধাগ্রস্ত করতে চক্রান্ত করছে। তাই তিনি দেশবাসী ও সচেতন সকল মহলের সহযোগিতা কামনা করেন।
তিনি আরও বলেন, ফ্যামিলি কার্ডের অর্থ সরাসরি বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে নির্ধারিত মায়ের মোবাইল নম্বরে পাঠানো হবে। উপকারভোগী চাইলে বিকাশ বা অন্য কোনো বৈধ মাধ্যমে অর্থ উত্তোলন করতে পারবেন। টাকা পৌঁছে দেওয়ার জন্য কোনো মধ্যস্থতাকারীর প্রয়োজন নেই। সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা নিয়মিতভাবে তদারকি করবেন উপকারভোগীরা সঠিকভাবে টাকা পাচ্ছেন কিনা।
ডা. জাহিদ জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, কেউ যদি ফ্যামিলি কার্ডের নামে আর্থিক সুবিধা দাবি করে, তাহলে সেটি প্রতারণা হিসেবে গণ্য হবে। এ ধরনের প্রস্তাব পেলে নাগরিক দায়িত্ব হিসেবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তা বা সংবাদমাধ্যমকে জানানোর অনুরোধ জানান তিনি।