
গরমে বাড়ছে ফুড পয়জনিংয়ের ঝুঁকি, নিজেকে সুস্থ রাখতে যা করবে
স্টার নিউজ ডেস্ক:
দেশজুড়ে তাপমাত্রা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে বেড়ে যাচ্ছে খাদ্যবাহিত রোগ ও ফুড পয়জনিংয়ের ঝুঁকি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অতিরিক্ত গরমে খাবারে দ্রুত ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস ও অন্যান্য জীবাণু জন্ম নেয়, যা খাবারকে দূষিত করে মানুষের শরীরে নানা ধরনের অসুস্থতার কারণ হতে পারে।
বিশেষ করে রাস্তার খোলা খাবার, দীর্ঘ সময় ধরে বাইরে রাখা রান্না করা খাবার, অপরিষ্কার পানি ও সঠিকভাবে সংরক্ষণ না করা খাদ্য গ্রহণের ফলে ফুড পয়জনিংয়ের ঘটনা বাড়ে। শিশু, বয়স্ক ব্যক্তি এবং যাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তুলনামূলক কম, তারা এ ধরনের সমস্যায় বেশি আক্রান্ত হন।
চিকিৎসকদের মতে, ফুড পয়জনিং হলে সাধারণত বমি, বমি বমি ভাব, পাতলা পায়খানা, পেটব্যথা, জ্বর, দুর্বলতা এবং শরীরে পানিশূন্যতা দেখা দিতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে দ্রুত চিকিৎসা না নিলে পরিস্থিতি গুরুতর হয়ে উঠতে পারে।
কেন বাড়ে ঝুঁকি?
গরম ও আর্দ্র আবহাওয়া ব্যাকটেরিয়ার বংশবিস্তারের জন্য অত্যন্ত অনুকূল পরিবেশ তৈরি করে। খাবার দীর্ঘ সময় স্বাভাবিক তাপমাত্রায় থাকলে সালমোনেলা, ই-কোলাই এবং স্ট্যাফাইলোকক্কাসের মতো ক্ষতিকর জীবাণু দ্রুত বৃদ্ধি পায়। ফলে খাবার দেখতে স্বাভাবিক মনে হলেও তা স্বাস্থ্যের জন্য বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে।
নিজেকে সুস্থ রাখতে যা করবেন
১. তাজা ও নিরাপদ খাবার খান
রান্না করা খাবার দীর্ঘ সময় বাইরে না রেখে দ্রুত খেয়ে ফেলুন। বাসি খাবার খাওয়ার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকুন।
২. নিরাপদ পানি পান করুন
ফুটানো বা বিশুদ্ধ পানি পান করুন। বাইরে বের হলে বোতলজাত নিরাপদ পানি ব্যবহার করা ভালো।
৩. রাস্তার খোলা খাবার এড়িয়ে চলুন
ধুলাবালি ও মাছির সংস্পর্শে থাকা খাবারে জীবাণু থাকার আশঙ্কা বেশি থাকে।
৪. ফল ও সবজি ভালোভাবে ধুয়ে খান
খাওয়ার আগে পরিষ্কার পানি দিয়ে ফলমূল ও সবজি ভালোভাবে ধুয়ে নিন।
৫. হাত পরিষ্কার রাখুন
খাওয়ার আগে এবং টয়লেট ব্যবহারের পর সাবান দিয়ে অন্তত ২০ সেকেন্ড হাত ধুয়ে নিন।
৬. খাবার সঠিকভাবে সংরক্ষণ করুন
দুধ, মাছ, মাংস ও অন্যান্য দ্রুত নষ্ট হওয়া খাবার ফ্রিজে সংরক্ষণ ছকরুন। বিদ্যুৎ চলে গেলে দীর্ঘ সময় ফ্রিজের দরজা খোলা থেকে বিরত থাকুন।
৭. পানিশূন্যতা রোধ করুন
প্রচুর পানি পান করুন এবং প্রয়োজনে ওরস্যালাইন গ্রহণ করুন।
কখন চিকিৎসকের শরণাপন্ন হবেন?
ফুড পয়জনিংয়ের কারণে যদি বারবার বমি হয়, উচ্চ জ্বর দেখা দেয়, মলে রক্ত আসে, তীব্র পানিশূন্যতা দেখা দেয় অথবা উপসর্গ ২৪ ঘণ্টার বেশি স্থায়ী হয়, তাহলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সামান্য সচেতনতা ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চললে গরোমের সময় ফুড পয়জনিংয়ের ঝুঁকি অনেকাংশে কমিয়ে আনা সম্ভব। নিরাপদ খাদ্যাভ্যাসই হতে পারে সুস্থ থাকার সবচেয়ে কার্যকর উপায়।








